চকরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলা, এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘বানোয়াট’ দাব
এম এ রাশেদ চৌধুরী:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি মারার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফা খাতুন ও মোঃ রফিক ওরফে লেডুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৩ এপ্রিল আরিফা খাতুন নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করলে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে চকরিয়া থানার নির্দেশে এসআই ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপের পরামর্শ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ এ প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে উল্টো কাজ বন্ধে হুমকি প্রদান করে এবং উত্তেজনা ছড়ায়।
পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রফিককে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এরপর একটি পক্ষ থেকে এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি মারার অভিযোগ আনা হয়। তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এসআই ফারুক হোসেন নিউজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এখন সেই ঘটনাকে আড়াল করতে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক হিমেল হাসান বলেন, “এসআই ফারুক হোসেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
