রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি—-রাঙামাটি সদর উপজেলার কুদুকছড়ির উপর পাড়া (আবাসিক) এলাকায় জেএসএস (সন্তু)-এর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ কর্তৃক গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ এর সহযোগি সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “আজ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে জেএসএস (সন্তু)-এর ১৮-২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় (আবাসিক) হানা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার বাড়ি ঘেরাও করে। এতে প্রাণ রক্ষায় তিনি বাড়ি থেকে সরে যাবার সময় সন্ত্রাসীরা তার পিছু ধাওয়া করে। বেশ কিছুদূর ধাওয়া করার পর সন্ত্রাসীরা তাকে নাগাল পেয়ে সেখানে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তারা দু’জনই হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীদের মধ্যে অটল চাকমা ও ঝিমিত চাকমা নামে দু’জনকে চেনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।”
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এ হত্যার ঘটনাকে কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে বলেন, “বৈ-সা-বি উৎসব শেষ হতে না হতেই একজন নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে সন্তু লারমার খুনির চেহারা আবারো উন্মোচিত হয়েছে। আসলে তিনি শাসকগোষ্ঠির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই পাহাড়ে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছেন।”
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয়, অবিলম্বে ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত জেএসএস (সন্তু)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা সংগঠক সচল চাকমা আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিৃবতিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমাকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি এ হত্যার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে বলেন, আজ ভোর সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় (আবাসিক) সন্তু লারমার লেলিয়ে দেওয়া একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী যুবনেতা ধর্মশিং চাকমাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। এ সময় তার দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমা ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও গুলি করে গুরুতর জখম করেছে।
বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জেএসএসের সভাপতি সন্তু লারমা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারে বসে খুনি বাহিনী লালন পালন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। রাষ্ট্রীয় বিশেষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় গদি রক্ষার্থে তিনি এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার হত্যাকারী সন্তু বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
