রাজধানীর জুরাইনে শারমিন আক্তার শেলী (২৬) হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে
মোঃ শহিদুল ইসলাম জনি
May 2, 2026 at 22:26
রাজধানীর জুরাইনে শারমিন আক্তার শেলী (২৬) হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শেলীকে হত্যার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহভাজন খুনিসহ কয়েকজনের চ্যাট হয়েছে।
এ চ্যাট নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। হত্যার পর কিভাবে চ্যাট করা হলো সে রহস্যের জট খুলতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। তারা দেখতে পান-এ হত্যার সঙ্গে জড়িত শেলীর কথিত স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন। চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা মামুন এ হত্যার দায় থেকে নিজেকে আড়াল করতেই রহস্যময় চ্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন। সোমবার মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে কদমতলী থানার জুরাইন কমিশনার মোড়ের ৯৮৪/১ নম্বর বাসার চতুর্থতলার ফ্ল্যাট থেকে শেলীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শেলীর মা সাহানা বেগম কদমতলী থানায় মামলা করেছেন। এতে মামুনকে আসামি করা হয়েছে। বাড়িওয়ালা জানান, ৮-৯ মাস আগে শেলী ও মামুন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন।
জানতে চাইলে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী নিউজ বিবিসি বাংলা কে বলেন, স্বামী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়া মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ এপ্রিল রাতে মামুন ওই ফ্ল্যাটে যান এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেরিয়ে আসেন। বাইরে থেকে তাতে তালা দেওয়া হয়। ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে অন্য ভাড়াটিয়ারা বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানায়।
বাড়িওয়ালা শেলীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এসএমএস করে দুর্গন্ধের বিষয়টি জানান। তখন ওই ফোন থেকে উত্তর আসে- ‘তিনি বাইরে আছেন এবং বাসায় ফিরে দুর্গন্ধের কারণ খুঁজে বের করবেন।’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে-২১ এপ্রিল ছাড়াও আরও একদিন মামুন ওই ফ্ল্যাটে যান। মূলত বাড়িওয়ালা দুর্গন্ধের কথা বলায় তিনি বাসায় গিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে আসেন।
লাশ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতরে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো দেখা গেছে।
